বাংলাদেশ, , মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নভেরা আহমেদ বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম

  প্রকাশ : ২০২২-১২-০৭ ১১:৪৪:০৮  

নভেরা আহমেদ বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম : সোহেল ফখরুদ-দীন

পরিস্থিতি২৪ডটকম : ভাস্কর নভেরা আহমেদ (১৯৩৯-২০১৫) । পৃথিবীর ইতিহাসে ভাস্কর শিল্পী হিসেবে একজন পরিচিত নাম। তিনি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কৃতীসন্তান। তাঁর পিতা বাঁশখালীর অদিবাসী ছিলেন। পিতার নাম সৈয়দ আহমেদ।নভেরার জন্মের পর চাচা নাম রাখেন নভেরা। নভেরা ফার্সি শব্দ। যার অর্থ নবাগত। বাবার চাকরির সুত্রে নভেরা চট্টগ্রামের আসকার দিঘীর পাড়, খুলনা, কুমিল্লা, কলিকাতায় বসবাস ও লেখা পড়া করেছেন।উন্নত শিক্ষার জন্য লণ্ডন ও ইতালিতে ছিলেন। শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আসেন।
নভেরা আহমেদ এমন একজন ভাস্কর্য শিল্পী যাঁর ৮০ তম জন্মদিনে বিশ্বের জনপ্রিয় মাধ্যম ‘ গুগল ‘ ডুডল তৈরি করে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করেন। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার তৈরীর নকশা প্রনয়নে তিনি অন্যতম প্রধান রুপকার ছিলেন। তিনি সেচ্চায় নির্বাসনে প্যারিসে ( ফ্রান্স) বসবাস করতেন। তবে ওখানে বসবাস করলেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিয়ে ই ছিলেন। তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৯৬ সালে একুশে পদক প্রদান করেন। কিন্তু অভিমানী এই মনীষী পুরস্কার প্রাপ্তির অনুষ্ঠানে আসেন নি। বাংলাদেশের জাতীয় যাদুঘরের একটি মিলনায়তনের নাম ‘নভেরা আহমেদ ‘ ও বাংলা একাডেমিরও একটি মিলনায়তনের নাম ‘ নভেরা আহমেদ ‘। এত বড় সম্মান পাওয়া বিশ্ব ভাস্কর নভেরা আহমেদর জন্মভুমি চট্টগ্রামে সেটি আমরা কজনই জানি? নবপ্রজন্মের কেউ কি জানেন?? ইতিহাস থেকে জানাযায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্যারিস সফরে গেলে তিনি নভেরা আহমদের সাথে দেখা করেন। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যখন ফ্রান্স যান তখনো তিনি নভেরা আহমদের সাথে দেখা করেন।
দেশ ও বিদেশের আলোচিত ভাস্কর নভেরা আহমেদ ৬ মে ২০১৫ সালে প্যারিসে মারা যান। নভেরা আহমেদ ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ত্যাগ করার পর প্যারিসে বসবাস কালে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন , তবে বড় কোন আঘাত পাননি। মৃত্যু অবধি তিনি মানুষের সংসর্গ বাঁচিয়ে চলেছেন। রহস্যময় কারণে তিনি কখনো বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন নি। এমনকী বাঙ্গালী এড়িয়ে চলতেন। বাংলায় কথা বলতেও তার অনীহা ছিল প্রকট। কিন্তু ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে স্ট্রোকের ফলে হুইলচেয়ারে বসেই তার শেষ জীবন কাটে। ১৯৭৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে তাঁর সৃষ্টি ও নির্মাণের সংখ্যা খুব কম। তবে তাঁর ৪৩ টি ঐতিহাসিক কাজের হদিস পাওয়া যায়। যা ইতিহাসে অতিব গুরুত্বপূর্ন।
সহায়ক তথ্যাবলি ‘গুগল’ থেকে।তাদের কাছে ঋন স্বীকার করছি।

লেখক : সোহেল ফখরুদ-দীন। সভাপতি, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র ( সিএইচআরসি) বাংলাদেশ।

 



ফেইসবুকে আমরা