পরিস্থিতি২৪ডটকম : প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্পের উদ্যোগে অদ্য ২৭ নভেম্বর ২০২৫ইং বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি), চট্টগ্রাম-এর সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ইস্যুতে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে “নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা” অনুষ্টিত হয়। প্রত্যাশী ’র উপ-নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ শহীদ উদ্দীন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক) রূপন কুমার দাশ। প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্প ব্যবস্থাপক বশির আহম্মদ মনি (সূফি মনি)’র সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হেলভেটাস বাংলাদেশ-এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর তাওহিদা কবির। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন বিকেটিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী পলাশ কুমার বড়ুয়া, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস-এর সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক-এর সহকারি মহাব্যবস্থাপক হাসান মোহাম্মদ সাহারিয়া, চট্টগ্রাম মহিলা টিটিসি ’র অধ্যক্ষ্য প্রকৌশলী আশরিফা তানজীম, চট্টগ্রাম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহকারি পরিচালক এনায়েত উল্লাহ, রাউজান
টিটিসি ’র অধ্যক্ষ শ্যামল বড়–য়া, শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ দপ্তরের সহকারি পরিচালক আসমা আকতার প্রমূখ। প্রধান অতিথি চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচারক) তাঁর বক্তব্যে বলেন- বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার নিশ্চিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শ্রম অভিবাসী, বিদেশফেরত ব্যক্তি অথবা প্রবাসী পরিবার প্রতারণার শিকার হলে এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়। তিনি আরো বলেন, এ ধরণের সমন্বয় সভা যত বেশি আয়োজন করা হবে, অভিবাসী কর্মীদের সেবা, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা তত বেশি সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অবশ্যই বিদেশগামী কর্মীদের ন্যায্য ও স্বচ্ছ চুক্তিপত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে। সভাপতি ও প্রত্যাশী উপ-নির্বাহী পরিচালক বলেন-সরকারি ও বেসরকারিউন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যৌথভাবে কাজ করলে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। তিনি আরও বলেন যে, তথ্যপ্রদান, প্রাসঙ্গিক পরামর্শ, আইনগত সহায়তা ও কমিউনিটি পর্যায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশগমন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়। এতে করে প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং কর্মক্ষেত্রের শোষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ অতিথি বিকেটিটিসি এবং চট্টগ্রাম মহিলা টিটিসি’র অধ্যক্ষবৃন্দ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের দিকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় প্রত্যাশীকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ অতিথি ডিইএমও’র সহকারী পরিচালক বলেন-জেনে বুঝে ও দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়ার কোন বিকল্প নাই। তিনি নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য প্রত্যাশীকে ধন্যবাদ জানান। এসময় অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে সরকারি পরিষেবা সমূহ বর্ণনা করেন। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), বিমান বন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, আইনজীবি, বায়রা, রিক্রুটিং এজেন্সি, গণমাধ্যম কর্মী, মাইগ্রেশন ফোরাম, জিএমসি এবং অভিবাসিকর্মী প্রতিনিধিবৃন্দ সহ অপরাপর সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি