বাংলাদেশ, , সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২

আজ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী

  প্রকাশ : ২০২১-১০-২৪ ১১:২৪:৫৭  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : অবিভক্ত ভারতীয় উপমহাদেশের বহুমাত্রিক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক, মুসলিম বাংলা সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সমাজ সংস্কারক, নিঃস্বার্থ রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রবিবার। মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকী  উপলক্ষে আগামীকাল বিকাল ৪টায় পরিস্হিতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনাসভা নগরীর ষ্টেমন রোডস্হ এশিয়ান এস আর হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। অতিথি আলোচক হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য যে,উপমহাদশের মহান বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী, সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সাহিত্যিক দার্শনিক, লেখক-গবেষক, রাজনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী।তিনি ১৮৭৫ সালের ২২ আগস্ট দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুনশী মুহাম্মদ মতিউল্লাহ আরবী-ফারসী ভাষায় সুপন্ডিত ছিলেন। মাতার নাম রহিমা বিবি। চট্টগ্রামের অপর নাম ‘ইসলামাবাদ’। সেই প্রেক্ষিতে মনিরুজ্জামান নামের শেষে ইসলামাবাদী যোগ করেন। তিনি মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৮৯৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলী মাদরাসা থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয় শিক্ষকতার মাধ্যমে। রংপুর হারাগাছি সিনিয়র মাদরাসায় সুপারিনটেন্ডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।
এখান থেকেই তিনি সাহিত্য, সমাজসেবা ও শিক্ষা প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন। এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকতা এবং রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাংবাদিকতার সূচনা হয় সাপ্তাহিক ‘ছোলতান’-এর মাধ্যমে। সাপ্তাহিক ‘ছোলতান’ পরে ‘দৈনিক ছোলতান’-এ উন্নীত হয়। তিনি ছিলেন এ পত্রিকার সম্পাদক। পরে আঞ্জুমানে ওলামায়ে ইসলাম বাংলা ও আসামের মুখপাত্র ‘আল-ইসলামে’র সম্পাদক হন। এই পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুসলমানদের মাঝে আত্মজাগরণের প্রেরণা ছড়িয়ে দেন। তিনি শিক্ষা-সংস্কৃতিতে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের অগ্রসর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাঙালী মুসলমানের জাতিগত ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলায় প্রকাশিত পত্রিকার প্রথম মুসলমান সম্পাদক।তৎকালীন দুনিয়াজোড়া খ্যাতির শীর্ষে ছিল ফারসী ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্র ‘হাবলুল মতিন’। প্রাচ্যের নেতা আল্লামা জামালুদ্দিন আফগানীর শিয্য ইরানের নির্যাতীত ত্যাগীনেতা আগা মঈদুল ইসলামের সম্পাদনায় কলকাতায় ইংরেজীতে ‘মিল্লাত’ ও উর্দু-ফারসীতে, দৈনিক ‘হাবলুল মতিন’ প্রকাশিত হতো। মাওলানা ইসলামাবাদী ‘হাবলুল মতিনে’র বাংলা সংস্করণের সম্পাদক ছিলেন। এরজন্য মাওলানা ইসলামাবাদীকে বলা হয় বাংলায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকার প্রথম মুসলমান সম্পাদক। সংবাদপত্র জগত ও মুসলিম সাংবাদিকতায় মাওলানা ইসলামাবাদীর অবদান অপরিসীম।চট্টগ্রামের দক্ষিণ মহকুমার কর্ণফুলীর তীরবর্তী দেয়াং পাহাড়ে জাতীয় আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল তাঁর আজীবন। ১৯১৫ সালে তিনি সেই লক্ষ্যে সরকার থেকে ৬০০ বিঘা জমি ও ওই এলাকার জমিদার আলী খান থেকে ৫০০ কানি ভূমি রেজিস্ট্রি মূলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। মুসলিম রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদ মাওলানা শওকত আলী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। দেয়াং পাহাড়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই স্থান পরিদর্শনে এসে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মওলানা আকরম খাঁ, মুন্সী রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে।

মাওলানা ইসলামাবাদী ৪২টির মতো গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলোর মধ্যে ১. ভারতে মুসলিম সভ্যতা, ২. সমাজ সংস্কার, ৩. ভূগোল শাস্ত্রে মুসলমান, ৪. ইসলাম জগতের অভ্যুত্থান, ৫. ভারতে ইসলাম প্রচার, ৬. সুদ সমস্যা, ৭. ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের অবদান (৩ খণ্ডে), ৮. ইসলামী শিক্ষা, ৯. কোরআন ও বিজ্ঞান, ১০. আত্মজীবনী ইত্যাদি উল্লেযোগ্য। তিনি ১৯৫০ সালের ২৪ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন।



ফেইসবুকে আমরা