বাংলাদেশ, , বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

আমদানি রপ্তানী করার নিয়ম.. ২য় পর্ব : মোহাম্মদ আলাউদ্দীন চেীধুরী মোর্শেদ

  প্রকাশ : ২০১৯-১১-১৮ ২০:০৪:৪৭  

গত পর্বের পর আপনাদের সুবিধার জন্য সরকার ঘোষিত বুকলেট মোতাবেক ফি সমুহ উল্লেখ করা হলো :

পরিস্হিতি২৪ডটকম : আপনার বার্ষিক মোট আমদানির সর্বোচ্চ মূল্য সীমা ৫ লক্ষ টাকা হলে প্রাথমিক নিবন্ধন ফিস ৬ হাজার টাকা, সাথে ১৫% হারে ভ্যাট বাবদ ৯০০ টাকা সহ সর্ব মোট ৬৯০০ টাকা আলাদা আলাদাভাবে চালান জমা দিতে হবে সরকারী ব্যাংকে।
আপনার বার্ষিক মোট আমদানির সর্বোচ্চ মূল্য সীমা ২৫ লক্ষ টাকা হলে প্রাথমিক নিবন্ধন ফিস ১১ হাজার টাকা, সাথে ১৫% হারে ভ্যাট বাবদ ১৬৫০ টাকা সহ সর্ব মোট ১২৬৫০ টাকা আলাদা আলাদাভাবে চালান জমা দিতে হবে সরকারী ব্যাংকে।
আপনার বার্ষিক মোট আমদানির সর্বোচ্চ মূল্য সীমা ৫০ লক্ষ টাকা হলে প্রাথমিক নিবন্ধন ফিস ১৯ হাজার টাকা, সাথে ১৫% হারে ভ্যাট বাবদ ২৮৫০ টাকা সহ সর্ব মোট ২১৮৫০ টাকা আলাদা আলাদাভাবে চালান জমা দিতে হবে সরকারী ব্যাংকে।
আপনার বার্ষিক মোট আমদানির সর্বোচ্চ মূল্য সীমা ১ কোটি টাকা হলে প্রাথমিক নিবন্ধন ফিস ৩১ হাজার টাকা, সাথে ১৫% হারে ভ্যাট বাবদ ৪৬৫০ টাকা সহ সর্ব মোট ৩৫৬৫০ টাকা আলাদা আলাদাভাবে চালান জমা দিতে হবে সরকারী ব্যাংকে।
আপনার বার্ষিক মোট আমদানির সর্বোচ্চ মূল্য সীমা ৫ কোটি টাকা হলে প্রাথমিক নিবন্ধন ফিস ৪৬ হাজার টাকা, সাথে ১৫% হারে ভ্যাট বাবদ ৬৯০০ টাকা সহ সর্ব মোট ৫২৯০০ টাকা আলাদা আলাদাভাবে চালান জমা দিতে হবে সরকারী ব্যাংকে।
আপনার বার্ষিক মোট আমদানির সর্বোচ্চ মূল্য সমিা ৫০ কোটি টাকা উর্দ্ধে হলে প্রাথমিক নিবন্ধন ফিস ৬১ হাজার টাকা, সাথে ১৫% হারে ভ্যাট বাবদ ৯১৫০ টাকা সহ সর্ব মোট ৭০১৫০ টাকা আলাদা আলাদাভাবে চালান জমা দিতে হবে সরকারী ব্যাংকে।
লাইসেন্স করার পর প্রতিবছর রিনেও ফি দিয়ে নবায়ন করে নিতে হবে।
৬ষ্ট ধাপ : ভোটার আইডি কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স,টিআইএন,চেম্বার সনদ, ব্যাংক সলভেন্সী সনদ,আইআরসি সনদ এর ফটোকপি দিয়ে ভ্যাট লাইসেন্স এর জন্য নির্ধারিত সার্কেল অফিসে আবেদন করবেন। সব কাগজ পত্র ঠিক থাকলে একদিন বা দু দিনের মধ্যে ভ্যাট নিবন্ধন হয়ে যাবে।

এই ছয়টা ডুকুমেন্ট এর কপি আপনার মনোনীত ব্যাংক জমা দিবেন, এখন আপনি বা আপনার ব্যবসা প্রসার করতে এল/সি খুলতে প্রস্তুত।
এল/সি খুলতে যা প্রয়োজন :
(১)মনোনীত ব্যাংকে কোম্পানীর একটি কারেন্ট একাউন্ট।
(২)কোম্পানীর ট্রেড লাইসেন্স।
(৩)ভোটার আইডি কার্ড (শেয়ার হোল্ডার গণের)
(৪)টিআইএন সার্টিফিকেট
(৫)আই,আর,সি কপি
(৬)ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন কপি
(৭)চেম্বার সনদ(যদি থাকে)
(৮)যে পন্যে আনবেন তার ইনডেন্ট কপি (পিআই-প্রোর্ফমা ইনভয়েস)মতা প্রাপ্ত ব্যাক্তি স্বাক্ষরিত।
(৯)এর পর ব্যাংক থেকে এল/সি ফরম সংগ্রহ করে তা পুরুন করে ব্যাংক এ জমা দিবে (আসলে এই কাজটি ব্যাংক করে থাকে আপনি শুধুমাত্র যথাযথ ঠিক চিহুত স্থানে স্বার করলে চলবে।
(১০)পিআই এর ভ্যালুর উপর ইন্সুরেন্স কভার নোট লাগবে
(১১)সাপ্লায়ার ক্রেডিট রির্পোট।
(১২)ব্যাংকের সাথে চুক্তিমাফিক এল/সি মার্জন জমাদিতে হবে (অথ্যাৎ ব্যাংকে নির্ধারিত অংকের টাকা জমা করতে হবে (ব্যাংকে যদি গুডউল থাকে তবে এল/সি মারর্জিন ১০% এর উপরে নেননা)
(১৩)সর্বশেষে গ্যারান্টি ফরম স্বার করতে হবে
(১৪)এই সব যথাযতো ভাবে প্রতিপালন হয়েছে মর্মে ব্যাংক বুঝতে পারলে ব্যাংক এল/সি হোল্ডারকে এলসির একটা কপি দিবে, অরজিনালটি SWIFT এ পাটিয়ে দিবে আপনার রপ্তানী কারকের ব্যাংকে।
(১৫)রপ্তানীকারক তার ব্যাংকে প্রাপ্ত লেটার অব ক্রেডিট পরীক্ষা করবে এবং এল/সি এর শর্তাবলী বা কন্ডিশন গুলো যদি ঠিক থাকে তবে আমদানিকারকের সাথে বানিজ্য করার সিদ্ভান্তে আসবে, যদি শর্তবলীর ভিতরে কিছু গরমিল থাকে তবে তা দ্রুত সংশোধন করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে ফিরতী মেসেইজ পাঠাই, তখন আমদানিকারকের বানিজ্য চুক্তির শর্তমোতাবেক সংশোধিত এল/সি কপি মনোনীত ব্যাংক তা সংশোধন করে দুত পূনরায় তা রপ্তানী কারকের ব্যাংকে প্রেরণ করেন।
(১৬)রপ্তানী কারক সংশোধিত এল/সি কপি পাওয়ার পর পিআই মোতাবেক পণ্যে চালান সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করেন।
(১৭)রপ্তানীকারকত এল/সি এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে যথাযতো ভাবে চাহিদা মোতাবেক সকল ডকুমেন্ট সই স্বাক্ষর করে তার ব্যাংকে প্রেরণ করেন, এল/সি এর শর্তাবলী মোতাবেক ব্যাংক উক্ত নথিগুলি চেক করে ইস্যুকারী আমদানিকারকের ব্যাংকে তা প্রেরণ করেন।
(১৮)ইস্যুকারী ব্যাংক এল/সি শর্তাবলী মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য নথি পরীক্ষা করে, সেই নথি আমদানিকারকের কাছে পাঠায়, আমদানি কারক তার মনোনীত সিএন্ড এফ এজেন্ট এর মাধ্যমে শিপিং কোম্পানীতে জাহাজের অবস্থান ও পণ্যে খালাসের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
(১৯)আমদানি কারকে এল/সির বিএল মোতাবেক তার পেমেন্ট মনোনীত ব্যাংকে প্রদান করেন,মনোনীত ব্যাংক তাহা যথাসময়ে রপ্তানী কারকের ব্যাংকে পেমেন্ট প্রদান নিশ্চিত করেন। এই ভাবে উভয়ের মধ্যে উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়।
তবে উল্লেখ্য যে, ইদানিং বেশ কিছু প্রতারক চক্র আমদানিকারকে যথাযতো পণ্য প্রদান না করে, এমনকি মানহীন, পচা ও পণ্যের বদলে বালির বস্থা ভরাট করে কন্টেইনার ভর্তি করে বাংলাদেশ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। অনেক আমদানি কারক প্রতারিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সমুঙ্খিন হয়েছে। তাই কম মুল্যে ভালমানের পণ্যে পাওয়ার লোভে প্রতারিত না হয়ে রপ্তানী কারকের সম্পর্কে যেনে শুনে বুঝে, তার কোম্পানীর বিশালতা সুনাম দেখে পিআই/ ইনডেন্ট সংগ্রহ করা উচিত। কেননা লেটার অব ক্রেডিট সঠিক পণ্যে পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেনা বরং ডকুমেন্ট বেইজড কাজ করে।ব্যাংক বুঝে ডুকুমেন্ট, মানি লন্ডারিং রোধ কল্পে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুয়ায়ী সমস্ত আমদানি রপ্তানী লেটার অব ক্রেডিটের মাধ্যমে হতে হবে, এটাই শর্ত।

এল/সি এর সাথে যে যে পক্ষ জড়িত থাকে তা হলো :

১)আবেদন কারী/ আমদানিকারক : আমদানিকারকের অনুরোধে সরবরাহকৃত পিআই মোতাবেক ব্যাংক এল/সি খোলে। বায়ার, আমদানিকারক, কাস্টমার হচ্ছেন এখানে এপ্লিকেন্ট বা আবেদনকারী।
২)বেনিফিশিয়ারী : এখানে রপ্তানী কারক হলেন বেনিফিশিয়ারী বা সরবরাহকারী যার অনুকূলে এপ্লিকেন্ট এর ব্যাংক এল/সি খোলে।
৩)ইস্যুয়িং ব্যাংক : এই ব্যাংক এপ্লিকেন্ট বা আমদানিকারকের পক্ষে এল/সি খোলে থাকে, এটাকে আবার লিয়েন ব্যাংক বা ওপেনিং ব্যাংক ও বলা হয়ে থাকে।
৪)এডভাইজিং ব্যাংক : এটা সর্বেেত্র প্রযোজন হয়না, এটা আমদানিকারকের ওপেনিং ব্যাংকের সাথে যদি রপ্তানী কারকের ব্যাংকের লেনদেনের এরেইনজমেন্ট না থাকে তখন প্রতিনিধি হয়ে কাজ করে থাকে, এই ব্যাংক রপ্তানী কারকের দেশে অবস্থিত। মনে রাখতে হবে এডভাইজিং ব্যাংক কোন কনফামিং ব্যাংক নয়।
৫)নমিনেটেড ব্যাংক : নমিনেটেড ব্যাংক হলো সেই ব্যাংক যে ব্যাংক এল/সি এর মূল্য পরিশোধ করতে আমদানিকারকের হয়ে প্রস্তুত।
৬)কনফার্মিং ব্যাংক : ইস্যূয়িং ব্যাংকের সাথে রপ্তানী কারকের ব্যাংকের পেমেন্ট আদান প্রদান এরেইনজমেন্ট না থাকায় এল/সি মূল্য পরিশোধের নিশ্চিয়তা প্রদানকারী হিসাবে এই ব্যাংক কাজ করে, এটা অনেকাংশে এডভাজিং ব্যাংক হিসাবে ও কাজ করে থাকে ও এল/সি মূল্যে পরিশোধের পূর্ণ নিশ্চিয়তা প্রদান করে।
৭)রিইনভয়েসিং ব্যাংক/ মীমাংসাকারী ব্যাংক : এই ব্যাংক ইস্যূয়িং ও নমিনেটেড ব্যাংক বা কনফামিং ব্যাংকের মধ্যে মীমাংসাকারী হিসাবে কাজ করে থাকে।
লেখক :
তরুন ব্যবসায়ী উদ্যেক্তা,রাজনীতিবিদ
চলবে…



ফেইসবুকে আমরা