বাংলাদেশ, , সোমবার, ২৫ মে ২০২০

ভারত সফরের প্রথম দিন একটি আন্তরিক শীতল অভ্যর্থনা : শওনীল হোসাইন

  প্রকাশ : ২০২০-০১-১৪ ১৮:২৭:১৩  

ভারত সফরের প্রথম দিন একটি আন্তরিক শীতল অভ্যর্থনা ..A heartiest Cold Reception : শওনীল হোসাইন

 

পরিস্হিতি২৪ডটকম : বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভ্রমণে, চিকিৎসা, তীর্থ দর্শনে বা দরগা জিয়ারত করতে ভারতে গমন করে। আমি, আমার পরিবার ও ভাগ্নি জামাতা নিয়ে এই সকল করণে ভারত সফরে গিয়েছিলাম।গত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ বাংলাদেশ বিমান যোগে ভারতের রাজধানি দিল্লীতে পৌঁছি। আমরা যখন দিল্লীর ইন্দারা গান্ধী আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে অবতরণ করি তখন সন্ধ্যা ৬টা ছুঁই ছুঁই। ইমেগ্রেশন করে নিজেদের মালপত্র সংগ্রহ করে টার্মিনাল গেটে এসে দেখি পূর্বে নির্ধারিত করা হোটেল রেডিয়েন্স এর প্রতিনিধি বিমান বন্দর বাহিরের লনে নেই। কথা ছিল আমার নামের প্লেকার্ড নিয়ে টেক্সির ড্রাইভার বা হোটেল প্রতিনিধি লনে থাকবেন। কি আর করা ! আমাদের যোগাযোগের কোন মাধ্যম তো নেই। মোবাইল থাকলেও ভারতীয় সীম কার্ড নেই!! আমরা এয়ার পোর্টের এয়ারটেলের ফোন বুথের সাহায্যে রেডিয়েন্স হোটেলের মালিক সন্জিব রাজার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান গুগলে বাংলাদেশ বিমান অবতরণের সময় সন্ধ্যা ৬টা নয় দেখাচ্ছে।তাই তিনি কাউকে পাঠাননি।কিন্ত রাত ৯ টা ৩০ মিনিট বেজে গেছে স্হানীয় সময়ে। গুগলও আমাদের সাথে মশকরা করল কি না বুঝে উঠতে পারলাম না। যাক তিনি আমাদের জন্য গাড়ী পাঠাচ্ছেন বললেন আর আমাদের কে ৫ নং বহির্গমন গেট দিয়ে বের হয়ে পুলিশ বক্সের পাশে এসে অপেক্ষা করতে বললেন। আমরা ব্যাগ প্যাটরা নিয়ে যথাস্থানে অপেক্ষা শুরু করলাম।


আমরা যখন এয়ারপোর্টের গেট দিয়ে বের হই এক হাল্কা হীম শীতল বাতাস এসে আমাদেরকে শীতল থেকে শীতলতর করতে শুরু করল। আমরা ঠান্ডার তীব্রতায় রিতিমত কাঁপতে শুরু করলাম। এমন ঠান্ডা আবহাওয়ার সাথে আগে কখন পরিচিত হইনি তো তাই !
আশ পাশের সকলের গায়ে মোটা জ্যাকেট বা কারো কারো গায়ে স্যুট ভিতরে মোটা সোয়েটার। সাহস করে একজনকে জিজ্ঞাস করলাম দাদা “During the winter, Is this kind of cold always in Delhi?”(শীতকালে, এইরকম শীত কি সর্বদা দিল্লিতে থাকে?) তিনি অনেকটা হেসে জিজ্ঞাস করলেন “ Are you from Bangladesh?(আপনি কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?) আমি একেবারে বুক ফুলিয়ে বললাম Yes ! Yes !! But how do you understand ? তিনি একটু হেসেই বললেন(হ্যাঁ ! হ্যাঁ!!তবে আপনি কীভাবে বুঝলেন?) “ you mentioned me Dada,(আপনি দাদা সম্বোধন করাতে), (ha.hahaa.)আবার তিনি হাসলেন..You asked me about cold in Delhi, isn’t?(আপনি কি আমাকে দিল্লির শীত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন, তাই না?) আমি বললাম Yes yes !!!জি !জী, তিনি অনেকটা বিজ্ঞের মতই বললেন My bro ! The city of Delhi is a magical city, very hot during summer and very cold during the winter, temperature is e de in summer on average 36 to 48 degree Celsius sometimes more and during the winter temperatures on average 8 to 19 degree Celsius, but sometimes its up to 22 and come down at 4/5 degree.( ভাই আমার! দিল্লি শহরটি একটি জাদুর শহর, গ্রীষ্মকালে খুব গরম এবং শীতকালে খুব শীত। তাপমাত্রা কখনও কখনও গড়ে ৩৬ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে এবং শীতকালের তাপমাত্রা গড়ে ৮ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে তবে মাঝে মাঝে এটি ২২ পর্যন্ত হয় আবার ৪-৫ ডিগ্রীতে নেমে আসে।)যাইহোক আমি আমারটা বুঝতে পারলাম। তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিয়ে আবার পুলিশ বক্সের পাশে এসে গাড়ীর জন্য অপেক্ষায় থাকলাম আর শীত বিলাস করতে শুরু করলাম।

হঠাৎ মনে হলো পুলিশ বক্সের ভিতরে অন্তত বৌ- বাচ্চাদের বসাতে পারলে কিছুটা হলেও তাঁরা আরাম পাবে। যে ভাবনা সেই কাজ ।
পুলিশ বক্সের দরজায় গিয়ে দেখি বক্সে একজন ভদ্র মহিলা সিভিল পোষাকে মোবাইলে আলাপচারিতায় মগ্ন। আমি তাঁর সামনে বিনীত ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম ওনার দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য। উনি ওনার মত করে গল্প করেই যাচ্ছেন তো যাচ্ছেন আমার মত এমন টুরিষ্ট কি উনি থোরাই কেয়ার করেন!
প্রায় ১০ মিনিট পর আমি ৬ ফুট লম্বা মানুষটা উনার দৃষ্টিতে পরার সৌভাগ্য অর্জন করলাম। তিনি ইশায় আমাকে অপেক্ষা করতে বলে আবারো গল্প করা শুরু করলেন। আমি আর ৭ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে যেখানে দাঁড়ায়ে ছিলাম সেখানে এসে দাঁড়ালাম। অপেক্ষা গাড়ীর।
কিছুক্ষণ পর ওই ভদ্র মহিলা আমার নিকট এসে আমি কি জানতে চাই তাই জানতে চাইলেন, আমি বললাম “I would like to talk to a police personnel(“আমি একজন পুলিশ কর্মীর সাথে কথা বলতে চাই”) তিনি হেসে দিয়ে বললেন “ Oh sorry!! I am not that, me also an appointee to meet to a police personnel” (ওহ দুঃখিত!! আমি তা নই, আমিও পুলিশ সদস্যের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষারত).. ”আমি আর কি করি ! তাঁকে তাঁর ভদ্রতার জন্য কৃতঙ্গতা জানিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছি রাজা ভাই এর প্রেরিত ড্রাইভারের জন্য। এদিকে ঠান্ডায় আমার বৌ-ছেলে – জামাতা জমে বরফ হয়ে যাওয়ার দশা । শেষতক ১ঘন্টা ১০মিনিট পর একজন এসে আমাকে বলল “ আপ শওকত জ্বী হুঁ না?” আমি যেন আকাশের চাঁদ পেলাম, আহ্লাদে বলে ফেললাম হুঁ হুঁ ….
তিনি বললেন “ঠিক হু জ্বী, মেরা নাম রাম, রাজা জ্বী নে ভেজায়া আপ লোগকো লেনেকে লিয়ে” আমি তাড়াতাড়ি জানতে চাইলাম তিনার গাড়ী কোথায়? তিনি জানালেন বহুতল পার্কিং এ । আমদেরকে তিনি তাকে ফলো করতে বলে সে আমাদের দুটো স্যুটকেস নিয়ে আগে আগে হাঁটতে শুরু করল আমরা তাঁর পিছে পিছে হাটতেছি। হাঁটতে হাঁটতে প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে লিফট বেয়ে তিন তলায় গিয়ে তার গাড়ী পেলাম আর আমরা গাড়ীতে চেপে বসলাম । রাম বাবু বহুতল গাড়ীপার্কিং থেকে নেমে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেন। আমার বৌ গাড়ীতে বসেই গাড়ীর হিটার চালেতে নির্দেশ দিলেন রাম বাবুকে আর সদোক্তি করতে লাগলেন বাবারে কি যে ঠান্ডা(!!) বাপরে কি যে ঠান্ডা (!!)..গাড়ী চলতেছে হোটেলের উদ্দেশ্যে আর আমি রাম বাবুকে জিজ্ঞাস করলাম আজকের তাপমাত্রা কত হতে পারে বলতে পারবেন ? তিনি একেবারে বিজ্ঞের মত বিনা চিন্তায় বলে দিলেন “ স্যার জ্বী টিভি মে দ্যাখা ৭ ডিগ্রী।কিন্ত আমাদের নেট কানেকশন না থাকায় আমরা গুগল মামার সাহায্য নিতে পারি নাই । তবে রাম বাবুর উত্তর আমরা ফেলতেও পারি নাই। স্হানীয় সময় ৭টা ৫০ মিনিটে হোটেল রেডিয়েন্স এ এসে টিভি খবরে দেখি রাম বাবুই সঠিক। ঠান্ডার ব্যতিক্রম রিসিপশন শেষে হেটেলে পৌঁছে কম্বলের নিচে ডুকতে পেরে রাতে খাওয়াই ভুলে গেছিলাম।বাপরে সে কি ঠান্ডা (!!)।
চলমান…
লেখক : শওনীল হোসাইন



ফেইসবুকে আমরা