বাংলাদেশ, , রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯

ভাষা প্রেমিক তারকনাথ দত্ত ও আমাদের মাতৃভাষা দিবস

  প্রকাশ : ২০১৮-১২-২০ ১০:৫৭:৫৮  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ১৬ বছরধরে নিয়মিত ঢাকায় আসেন তারকনাথ দত্ত। কেন্দ্রীয়শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কলকাতায় ভাষা দিবস পালন করা হলেও বাংলাদেশেই প্রাণ খুঁজে পান তিনি। তিনি মনে করেন, প্রথমে তিনি বাঙালি, পরে ভারতীয়।
রোববার সকালে শহীদ মিনারে দেখা হয় তারকনাথ দত্তের সঙ্গে। তার সঙ্গে এবার এসেছিলেন একই নামের
আরেকজন। শুধু পদবি আলাদা। তিনি তারকনাথ সাহা। কলকাতার কালীগঞ্জ থেকে এসেছেন এ দুই ভারতীয় বাঙালি। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তারা ঢাকায় আসেন। গত কয়েকদিন বইমেলায় ঘুরে পছন্দের লেখকের বই কেনেন। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রভাত ফেরিতে দুই জনই আসেন শহীদ মিনারে। হাতে লাল গোলাপ, পরনে সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় পরা ব্যান্ডের
একপাশে লাল-সবুজ খচিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
তারকনাথ দত্তের হাতে দেখা গেল ভারতীয় পতাকা। কারণ হিসেবে জানালেন, ভৌগোলিক রেখা অঙ্কন করে দেশভাগ করা যায়, ধর্মের বিধান দেখিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আলাদা যায়। কিন্তু ভাষার কাছে সব এক। ভাষা দিয়ে দেশ, ধর্ম, জাতি, ভৌগোলিক সীমারেখা আলাদা করা সম্ভব না।
‘আমার হাতে ভারতের পতাকার অর্থ আমি ভারতীয়। আমি যে ভারতীয়, প্রকাশ করেছি বাংলা ভাষায়। কারণ আমি বাঙালি। প্রথমে আমি বাঙালি। কারণ জন্মের পর আমি এ ভাষাতেই কথা বলি। আর সীমানার ভিত্তিতে ভারতীয়।
বাংলা ভাষা শুধু বাংলাদেশেই নয়, লাখ লাখ ভারতীয় এ ভাষায় কথা বলছে। ভারতীয় বাংলাভাষীদের প্রতিনিধিত্ব করছে এ পতাকা।’ তারকনাথ দত্ত বলেন, সব ভারতীয় বাংলাভাষীর পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতেই এখানে আসা। ভাষার টানে, হৃদয়ের টানে, বাংলার টানেই এখানে।এসেছি। ভাষার জন্য আত্মত্যাগের একমাত্র দৃষ্টান্ত স্থাপন এদেশের মানুষের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।
তারকনাথের কথায় সে দৃষ্টান্তের কথাই ফুটে ওঠে, ভাষার জন্য যুদ্ধ, আত্মত্যাগ সবকিছু এদেশের মাটিতে হয়েছে। এই দেশই খাঁটি বাংলার ভূমি।এখানে আসলে ভাষাটাকে অন্তর দিয়ে অনুভব করা যায়। হৃদয়টা গর্বে ফুলে ওঠে। আত্মতৃপ্তিতে ভরাট কণ্ঠে ভেসে ওঠে এ আমার বাংলা ভাষা। এ আমার মায়ের ভাষা।
২০০০ সাল থেকে নিয়মিত একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে
শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
জানাতে আসেন তারকনাথ। কলকাতায় ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করা হলেও ভাষা দিবসের প্রাণটা খুঁজে পান শুধু বাংলাদেশের মাটিতে। তারকনাথ বলেন, ‘যতবার আসি মুদ্ধতায় মন ভরে ওঠে। এ এক আত্মিক অনুভূতি।’ পেশায় সাইকেল ব্যবসায়ী হলেও বাংলার প্রতি, বাংলা
সাহিত্যের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তারকনাথের। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা সেরকম করা হয়নি। তবে সাহিত্য পাঠে ব্যাপক উৎসাহী। মাঝে মাঝে কবিতা লেখেন। আবেগতাড়িত কণ্ঠে শোনালেন তার রচিত ভাষাশহীদদের নিয়ে লেখা
কবিতার কয়েক লাইন—
কৃষ্ণচূড়া রক্তে আজি লাল
বুকের মাঝে উঁকি মারে জ্বালা
ধরাতলে আজ শপথ নেয়ার পালা
অমর শহীদ ডাকে আয় আয়
দুই পায়ে তুলি স্রোত
আমাকে জ্বালায় আমার বর্ণমালা…!
সুত্র : দেশে দেশান্তরে থেকে সংগৃহীত



ফেইসবুকে আমরা