বাংলাদেশ, , শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯

বিজয়’৭১ এর বীর চট্টলা বিজয় উৎসব : ডাঃ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন

  প্রকাশ : ২০১৮-১২-২০ ১১:২১:৫৫  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : বিজয়ের ৪৮ বৎসর অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আজ আমাদের স্বাধীনদেশটি বিশ্ব উন্নয়নের রোল মডেল। এ স্বাধীন দেশের পতাকা আমাদের অহংকার। একটি সুন্দর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় যেমন এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাণের এ দেশটি তেমনি এগিয়ে যাচ্ছে বিজয়’৭১ সংগঠনটি। বিজয়’৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপরে সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে বিজয়’৭১ তাঁর কর্মকান্ড পরিচালনা করে এসেছে।আজ এই মূহুর্তে চট্টগ্রাম ডিসি-হিল তথা নজরুল স্কয়ারে সমবেত উচ্ছাসিত জনতার কাতারে দাঁড়িয়ে আনন্দঘন মুহুর্তে এ দেশের সকল মুক্তি সৈনিক সূর্য সন্তানদের জানাচ্ছি লাল সালাম। বিজয়’৭১ এর বয়স ৫ বৎসর অতিক্রম করে সবে মাত্র ৬ বছরে পা রাখছে। এই পাঁচ বৎসর সাধারণ মানুষের যে ভালবাসা সংগঠনটি অর্জন করেছে তা ভুলার মত নয়। বিজয়’৭১ সংগঠনটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক, বিনামূল্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীগ্রন্থ বিতরণ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বই ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া, ত্রান সামগ্রী বিতরণ, গাছের চারা বিতরণ সহ সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। গত ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার ছিল বিজয়’৭১ সংগঠনের ৫ বৎসর পূর্তি উৎসব। বর্ণিল আয়োজনে ভরপুর এই অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও উপস্থিত সমবেত মানুষের চোখে মুখে ছিল বিজয়ের উল্লাস। পুরো আয়োজনটি ছিল ২ পর্বে বিভক্ত। দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিল লনীয়। ১ম পর্বের শুভ সূচনা ঘটে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১ম পর্বের উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন। মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট নিলু কান্তি নীলমনির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিভি চট্টগ্রাম জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্টাচার্য্য, মুক্তিযোদ্ধা মহানগর কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ, বাংলা টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান লোকমান চৌধুরী। শুরুতে উপস্থিত সমবেত জনতাকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন উদযাপন কমিটির আহবায়ক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, আমিও উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব হিসাবে স্বাগত ভাষণ রাখি। ১ম পর্বের সঞ্চালনা করেন দিলরুবা খানম সুইটি। ১ম পর্বের সভাপতি বিজয়’৭১ এর ২০১৮-২০২০ সালের নতুন কমিটির ঘোষণা প্রদান করেন। পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দদের বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর সকল উপস্থিত সকল অতিথি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
২য় পর্ব শুরুর পূর্বে নতুন কার্যকরী কমিটির সভাপতি নাট্যজন সজল চৌধুরী শহীদ জায়া-ভগ্নি বেগম মুসতারী শফিকে উপহারের শাল পরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নতুন কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। তখন বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা উঁকি দিচ্ছে। বিজয়’৭১ এর নব নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ২য় পর্বের অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা আমি নিজেই করি। এতে সভাপতিত্ব করেন নবনির্বাচিত সভাপতি নাট্যজন সজল চৌধুরী। ২য় পর্বে স্বগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক লায়ন ডাঃ আর কে রুবেল।
২য় পর্বের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ জায়া-ভগ্নি বেগম মুসতারী শফি। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক ডীন ড. মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিক গবেষক অধ্যাপক মাসুম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার। দৈনিক সমকালের জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার দাশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ। সংগঠনের সকল সদস্যগণের পুরো এই বর্ণিল আয়োজন যেন দেশ বিজয়ের উৎসব। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মহানগরীর ছয় থানার ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সদ্য প্রয়াত দাদার লাশ ঘরে রেখে প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা ছোট্ট শিশু শিহাব চলে আসে উৎসব প্রাঙ্গনে তাঁর প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর সেই কালজয়ী ভাষণ “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” প্রদানের জন্য। বীরাঙ্গনার অভিনয় করে উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করেন এড. জুলিয়েট দোস্তী। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক জনি বড়ুয়ার নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক দল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নৃত্য, পাহাড়ী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সৌন্দর্যকে দ্বিগুন বৃদ্ধি করেছে এবং সমবেত উপস্থিত জনতা তা মনভরে উপভোগ করেন। একটি সফল সুন্দর ও স্বার্থক আয়োজন সম্ভব হতো না, যাদের অকৃত্রিম সহযোগিতা না পেলে, তারা হলেন- গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন, প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং সকল ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ। তাঁদের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। পরিশেষে বিজয়’৭১ হোক দেশের পতাকা সমুজ্জ্বল করার সংগঠন. দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর সংগঠন এ কামনা করি।
লেখক: ডাঃ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন
চিকিৎসক, সংগঠক, সাধারণ সম্পাদক : বিজয়’৭১



ফেইসবুকে আমরা