বাংলাদেশ, , বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০

প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন

  প্রকাশ : ২০২০-০৭-২৮ ১৭:০৯:০৯  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নতুন অর্থবছরের চতুর্থ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ বার্তা দেন তিনি। সভা শেষে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আজকের একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৯৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা খরচে ‘রাজশাহী মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্বাসন’ প্রকল্প এবং ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা খরচে ‘খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্প রয়েছে।

এ দুটি প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব কথা বলেছেন, তা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী ও খুলনায় দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে নাগরিকদের পানির সুবিধার জন্য। এখানে কিছু প্রশ্ন উঠেছিল সংগত কারণেই। এখানে নাগরিকরা পানি খাবেন, তারা পয়সা দেবেন না – এই ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে সংগত কারণেই। আমরা প্রায়ই আলোচনা শুনি, আমরা কেন স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করছি না? তাদের কেন আরও ক্ষমতা দিচ্ছি না? যে অর্থের প্রয়োজন হয় মানুষের কল্যাণে, সেটা স্থানীয় সরকার থেকে আসা উচিত। যেসকল সম্মানিত নাগরিক ঢাকায় বা চট্টগ্রামে বাস করেন, তারা যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, অন্যরাও আশা করেন এটা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে, স্থানীয় সরকারগুলো যেন ক্রমান্বয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। আজকে এই টাকা দিতে প্রধানমন্ত্রী রাজি হয়েছেন যে, আমরা রাজস্ব থেকে দেব। কিন্তু এই টাকা ধীরে ধীরে কমাব। দীর্ঘদিন দিতে পারব না। এটা আপনাদের ম্যানেজ করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে নিজেদের স্বাবলম্বী হতে হবে। এই হলো মূল বার্তা প্রধানমন্ত্রীর।’

‘বাংলাদেশ যেমন পৃথিবীর ওপর নির্ভর করে স্বাধীন হতে পারবে না বা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে না। স্থানীয় সরকারের জন্য একই। এই কথাগুলো আজকে বেশ বড়সড়ভাবে আলোচনা হয়েছে’, বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

‘আমার বাড়ি আমার খামার (চতুর্থ সংশোধিত)’ প্রকল্পটিরও চতুর্থ সংশোধন অনুমোদন হয় আজকের একনেকে। এ প্রকল্পটি চিরদিন চলানো হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা থেকে বেরিয়েছিল। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, এটা চিরদিনের জন্য নয়। তারা যেন স্বাবলম্বী হতে পারে। আমরা দীর্ঘদিন দিতেই থাকব, আর তারা নিতেই থাকবে, এটা সম্ভব নয়। এটা হবে না। ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে আলোচনা হয়। ক্ষুদ্র ঋণ মানুষকে পুরোপুরি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীনতা এনে দেয় না। দিন এনে দিন খাওয়ার মতো ঋণ এনে ঋণ খায়। এক চক্রের মধ্যে ঘুরে। তার চিন্তা হলো- চক্র থেকে বের করে আনতে হবে। মূল চিন্তা হলো- ঋণ নয়, সঞ্চয়। দিনে এক টাকা হলেও সঞ্চয় করো। যদি তুমি এক টাকা সঞ্চয় করো, তোমাকে আমি আরেক টাকা দেব। দুই টাকা হবে। আপনারা ছাগল পালেন, মুরগি পালেন, মাছ চাষ করেন, যাই করেন না কেন, স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেন। এই প্রকল্পে এই বার্তা আজকে আবার দেয়া হয়েছে।’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজিতে আমরা অনেকগুলো অর্জন করেছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। আমরা এগিয়ে আছি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, আমাদেরও এখানে বাছাই করতে হবে। সবগুলো লক্ষ্যই আমরা অর্জন করব, কিন্তু ওইটাই আগে করব যেটা আমাদের জন্য বেশি প্রয়োজন। স্বাস্থ্য, কৃষি, পানি ইত্যাদি মানুষের কল্যাণ যেগুলোতে হয়। ওই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে এই লক্ষ্যগুলো, যেগুলো মানুষের কল্যাণে বেশি লাগে, সেগুলোকে আমরা আগে করব। এটা তার সাধারণ অর্ডার।’

সমন্বয়হীনতার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সমন্বয় নিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) প্রায়ই কথা বলেন। আজকে আবার বলেছেন, আমাদের মাঝে মাঝে দেখা যায় সমন্বয়ের ঘাটতি আছে। সমন্বয় জোরদার করার জন্য আমাদের সকলের ওপর তার তাগিদ আছে। আবারও তাগিদ এখানে আসছে। সমন্বয়ে কাজের গতি বাড়ে, আর অপচয় কমে।’

‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, সাবধান! এই প্রকল্পগুলো কিন্তু পরিবেশের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাবধানে আপনারা এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। দরকার হলে আমাদের খাদ্য ফলাতে হবে। আরও বেশি ধানের দরকার আমাদের। আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। আমরা যেন আমাদের নৈসর্গিক কাঠামো কোনোমতে ক্ষতিগ্রস্ত না করি। পুকুর, জলাশয় ইত্যাদি সুরক্ষা করে আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করব।’

‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন (দ্বিতীয় পর্ব)’ নামে একটি নতুন প্রকল্প আজ অনুমোদন দেয়া হয় একেনেকে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, হ্যাঁ। বড় প্রকল্প। এটা আমাদের নিজেদের সহায়তায়… আরও অনেক এলাকা বাদ রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট সেবা সারাদেশে যায় নাই। আমাদের সক্ষমতা কম। এটাকে কাভার করতে হবে। আপনারা আরও প্রকল্প তৈরি করে নিয়ে আসেন।’



ফেইসবুকে আমরা