বাংলাদেশ, , রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পলাশবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর একাধিক হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

  প্রকাশ : ২০১৯-০৯-১০ ১৬:৪৪:০৬  

পরিস্হিতি২৪ডটকম/(গাইবান্ধা প্রতিনিধি): গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী-র পরিবারের উপর একাধিকবার হামলার অভিযোগে তার নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্রে জানা যায়, পবনাপুর ইউনিয়নের বরকতপুর গ্রাম (খাঁপাড়ায়) মুক্তিযোদ্ধা (নুরুন্নবী)-র নিজ বাড়ীতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলে; উক্ত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ছেলে নান্নু মিয়া একটি লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। উক্ত সংবাদ অনুষ্ঠানে নান্নু মিয়ার পেশ করা বক্তব্যে বলা হয়, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাবা গত ১৩ আগষ্ট (মঙ্গলবার) বিকেলে গ্রামের খাঁপাড়ায় আলমগীরের দোকানে সামনে কয়েকজন যুবক আমার বাবার কাছে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব, মুক্তিচেতনার উশ্বাস এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কিছু গল্প শোনার জন্য তাঁকে অনুরোধ করে। কিন্তু ঐ সময় একই গ্রামের মো: আজাহার আলী সোনার ছেলে মো: আজাদুল ইসলাম সেখানে এসে মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে আলোচনা করতে বাঁধা দেয়। আমার বাবা আজাদুলের বাঁধাকে উপেক্ষা করে তাঁর গল্প বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে আজাদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে আমার বাবাকে চর-থাপ্পর মারতে থাকে। একই সময়ে আজাদুলে ইসলামের হুকুমে একই গ্রামের মৃত ছমছেল সোনার ছেলে মোশারফ হোসেন (২৮) সহ অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্র এনে মুক্তিযোদ্ধা (নুরুনবী)-র উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে এলাপাতারী মারধর করে তাঁর ডান হাত ভেঙ্গে দেয়। এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করে। একই সময়ে মুক্তিযোদ্ধা (নুরুনবী)-র বড় ছেলে ও আলমগীর তাঁদের বাবাকে উদ্ধার করতে এলে তাদেরকেও বেধর মারপিট করে। এসময় স্থানীরা মুক্তিযোদ্ধা নুরুনবীকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করায়। সেখানে তাঁর অবস্থা গুরুতর হলে তাঁকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

এ হামলাকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবীর ছেলে নান্নু মিয়া বাদী হয়ে গত ২৩ আগস্ট ১০ জনকে আসামী করে পলাশবাড়ী থানায় (নং-১২/১৫৪) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে।

তিনি আরো বলেন, পলাশবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করার পর থেকে আসামীগণের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদীসহ মুক্তিযোদ্ধা নুরুনবীকে নানা রকম হামলার আশাঙ্কা দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। আসামীগণের লোকজন আখ্যায়িত করে বলেন, দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়া না হলে, পরবর্তী সময়ে একই মামলার ধারবাহিকতা তাদেরই উপর চেপে দেওয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতা ব্যক্ত করে গত ২৮ আগস্ট খলিল মিয়া বাদী হয়ে (নং- ১৫/১৫৭) এবং ৩ সেপ্টেম্বর বজলু শেখ বাদী হয়ে (নং-০৫) পৃথক দু’টি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন। পরপর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর ২টি হয়রানিমূলক মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়। আসামীগণের লোকজন বাদী নান্নু মিয়াকে বলে, মামলা তুলে না নিলে তোদের আর গ্রামে উঠতে দেয়া হবে না। আজ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা নুরুনবীর পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতা সহ পুলিশ গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এ হামলার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।



ফেইসবুকে আমরা