বাংলাদেশ, , শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০

নান্দনিক জামালখান ওয়ার্ডের নন্দিতজন শৈবাল দাশ সুমন :: সজল কান্তি চৌধুরী

  প্রকাশ : ২০২০-০৭-০৮ ১৪:৩৩:০৭  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি ও বিপ্লবীদের চারণতীর্থ এই চট্টগ্রাম। নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা এই চট্টগ্রামের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। এই চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য যে কয়টি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়ার্ড হলো ২১নং জামালখান ওয়ার্ড। চট্টগ্রামের নামকরা বেশীরভাগ স্কুল, প্রেস কাব, বিভিন্ন মিডিয়া অফিস এবং স্বনামধন্য ডাক্তারদের চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য জামালখান এলাকা অত্যন্ত সুপরিচিত। গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসাবে বিগত পাঁচ বছর ধরে শৈবাল দাশ সুমন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সদা তৎপর ও উদ্যমী তরুণ কাউন্সিলর হিসেবে তিনি খ্যাতি পেয়েছেন ইতোমধ্যেই।

মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছেন এলাকাবাসীর। সাধারণত সিটি করপোরেশনের তিন মৌলিক কাজ-রাস্তাঘাট নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আলোকায়ন ছাড়াও ওয়ার্ড অফিসের অনেক অনিয়ম দূরীকরণ, ওয়ার্ডে অফিসের কাজে গতিবৃদ্ধি, এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন, খেলাধুলার প্রসার ও জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। চট্টগ্রামকে ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলর প্রয়াসে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কিন সিটি গ্রীন সিটির স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যেতে বিদ্যুৎ গতিতে অবিরাম ছুটে চলেছেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মানুষ করোনাভাইরাস আতঙ্কে আতঙ্কিত। বিশ্বের সকল মানুষই এই নীরব ঘাতক অদৃশ্য জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে চলছেন। এই ভাইরাসটির প্রভাবে আজ সারাবিশ্ব তথা আমাদের দেশসহ বিশ্বের ২১৫টি দেশ অঞ্চল লড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই ভাইরাসের প্রতিরোধের মূলমন্ত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘরে অবস্থান করা ও জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেই মাস্ক পরা। মহামারির এই ক্রান্তিলগ্নে শৈবাল দাশ সুমন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সোচ্চার হয়েছিলেন শুরু থেকেই। তিনি গত ১ জানুয়ারী থেকে জামালখান ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে এ মাস্ক বিতরণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এই ধারাবাহিকতায় ২১নং জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ‘করোনা’ ভাইরাস প্রতিরোধে। নিজ অর্থায়নে তৈরি মাস্ক নিয়ে ছুটছেন জামালখান ওয়ার্ড বাসিন্দাদের দ্বারে দ্বারে। স্কুল,কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন এই মাস্ক। এ সচেতনতার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জামালখান ওয়ার্ডে প্রতিটি ঘরে ঘরে ৫টি করে এবং বিভিন্ন স্কুলসহ মোট ২ লাখ ৫০ হাজার মাস্ক বিনামূল্যে বিতরণ করেন। মাস্ক পরাতে ভুল করেননি নগরবাসীর অভিভাবক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকেও। ব্যক্তি উদ্যোগে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে তিনি লিপলেট বিতরণ করেছেন। এছাড়াও তিনি করোনাকালীন এই দুর্যোগ মুহূর্তে ওয়ার্ডের আপামর জনসাধারণের পাশে থেকে সাধ্যমতো ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এর বাইরেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) থেকে মেয়র প্রদত্ত ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণও বিলি করেছেন ওয়ার্ডের জনসাধারণের মাঝে। গত রমজানে দুঃস্থ ও অসহায় রোজাদারদের মাঝে ইফতার ও সেহরিসামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছাড়াও শৈবাল দাশ সুমন প্রশংসিত হয়েছেন জামালখান ওয়ার্ডকে নান্দনিক ও হেলদি ওয়ার্ড হিসেবে উপহার দেয়ার জন্য। মূলত তিনি নিজের শৈশব, কৈশোর কাটিয়েছেন জামালখানে। এখানকার সবকিছুই তাঁর পরিচিত। তাই জামালখান এলাকার জন্য কাজ করার শপথ নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ান তিনি। তিনি প্রায়শ বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই জামালখানে বেড়ে উঠেছি। এলাকার আপামর জনসাধরণের সাথে আমার নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকে একটি প্রাণের সম্পর্ক রয়েছে। যখনই সময় ও সুযোগ পেয়েছি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকাবাসীকে সহায়তা দিয়েছি। পক্ষান্তরে, আমি যতটুকু এলাকাবাসীর প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছি তার চেয়ে অনেক বেশি সহানুভূতি দেখিয়েছে আমার জামালখান ওয়ার্ডের জনসাধারণ। জনতার অনুরোধেই জনতার কাতার থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছিলাম। জনতাই আমাকে তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। জনতার অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে কর্পোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী করে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারলেই আনন্দবোধ করি। আর গত ২৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে সিটি কর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমার আপাদমস্তক চিন্তায় সংযোজিত হয় অত্র এলাকার জনসাধারণের উন্নয়নে সহায়তা করা। কর্পোরেশনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বরাদ্দকে সমন্বিত করে কর্পোরেশনের নীতিমালার আলোকে জামালখান ওয়ার্ডকে নান্দনিক করার কাজ শুরু করেছি প্রাধান্যতার ভিত্তিতে। কেননা এই জামালখানের কোনো কিছু ভালো না লাগলে, অসুন্দর-অপরিচ্ছন্ন দেখলে দুঃখ পেতাম। একধরণের যন্ত্রণা অনুভব করতাম। সেই অনুভূতি থেকে অত্র ওয়ার্ডের জন্য কিছু করার প্রয়াস হয়। একসময়ের অন্ধকারচ্ছন্ন, আর্বজনাময়, জননিরাপত্তাহীন একটি ওয়ার্ড শুধু মধ্যবিত্ত-ধনিকশ্রেণীর বসবাসের জন্য হয়ে উঠেছিল ‘হেলদি ওয়ার্ড’! যে জামালখানে একটু রাত হলেই ঘনিয়ে আসতো অন্ধকার, স্ট্রিট লাইটগুলো জ্বলত মিট মিট করে। গণি বেকারী থেকে জামাল খান পর্যন্ত নেমে আসা নীরবতার কারণে বেড়ে যেত ছিনতাই আর নেশাখোরদের আনাগোনা। সেই জামাল খান আজ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ওয়ার্ড হিসাবে পরিচিত। চারিদিকে সবুজের সমারোহ তৈরি করা হয়েছে, লাগানো হয়েছে বিচিত্র গাছগাছালি ও ফুলের বাগান। সেই সাথে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান। সড়কজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এলইডি বাল্ব। পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে ছাউনি। জামাল খানের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুনিপুণ কারুকাজ করা হয়েছে। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গোলচক্করে স্থাপন করা হয়েছে রঙিন ফোয়ারা যা জামালখানের সৌন্দর্যকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বসানো হয়েছে লাইভ ফিশ একুরিয়াম (স্ট্রিট একুরিয়াম)। দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কাঁচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। মূলত গ্রীন এন্ড কীন সিটির যে প্রতিপাদ্য ছিল ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। ওয়ার্ডের শোভাবর্ধনে ফুটপাতগুলোতেও টাইলস সংযোজন করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় মুরব্বীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে বেসরকারিভাবে রাত্রিকালীন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি তিনি নিজেই পরিচ্ছন্নকর্মীদের সাথে থেকে তাঁর নির্বাচিত এলাকার পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম তদারকি করেছেন, যা অতি প্রশংসার দাবি রাখে। বর্তমানে জামালখান চট্টগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর সড়ক। ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশের সৃষ্টিশীল চিন্তা ও চসিক মেয়রের সহযোগিতা এবং সাথে সাথে কিছু কর্পোরেট হাউজের সহায়তায় জামালখান ওয়ার্ডকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে সুন্দর ওয়ার্ডে পরিণত হয়েছে। শৈবাল দাশ সুমন এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। যুবসমাজকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অপরাধ দমনে বর্তমানে জামালখান এলাকায় ৩২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনের লোকেরা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে অনেক অপরাধী শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, অপরাধপ্রবণতা কমেছে এবং অনেক অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছে এলাকাবাসী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তাঁর আমলে ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম ডিজিটাল স্কুল হলো কুসুম কুমারী স্কুল। সেখানে ব্যবস্থা করা হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্টের। যেখানে আভিভাবকরা খুব সহজে জেনে যাবে তাঁদের সন্তান স্কুলে উপস্থিত আছে কি-না। খুব সহজে পেয়ে যাবেন তাঁদের সন্তানের পরীক্ষার ফলাফল। এছাড়াও তাঁর তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় জামালখানের ৮টি জায়গাই ব্যবস্থা করা হয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই-এর। যেখান থেকে সবাই বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন ইন্টারনেট। সাধারণত শৈবাল দাশ সুমন ১৯৯০ সাল থেকে মাদকবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে এ আন্দোলনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত রয়েছে। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত মোট ৬ বার এই কাজের জন্য ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর তিনটি ব্যায়ামাগার রয়েছে। আমাদের দেশকে সুন্দর করতে হলে আমাদের দেশের মানুষগুলোকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে হলে এবং আগামী প্রজন্মকে সুন্দর মনমানসিকতা দিয়ে গড়ে উঠতে হলে মানুষকে সুস্থ থাকতে হবে। তাই সুস্থ-সুন্দর থাকার লক্ষ্যে তাঁর এই ব্যায়ামাগার প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর ভাবনাতে তিনি বলেন, বর্তমানে মাদক আমাদের দেশে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এই মাদক থেকে রক্ষা করতে যুবসমাজের প্রয়োজন ব্যায়াম এবং খেলাধুলা। এছাড়াও দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বরাবরই তিনি নারীশিক্ষার পক্ষে। তিনি মনে করেন, একটি পরিবার থেকে যদি একটি কন্যাশিশু শিক্ষার আলোতে আলোকায়িত হয় ধরে নিতে হবে সেই সমাজ আলোকিত সমাজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীশিার প্রতি অত্যন্ত মনযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে আদেশ মনে করে বাস্তবায়নের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে জামালখান ওয়ার্ডে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান শিক্ষায় শিক্ষিত। তাছাড়াও জামালখান ওয়ার্ডে চট্টগ্রামে স্বনামধন্য উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় হল ডা. খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। গত ২ বৎসর যাবৎ শাহ ওয়ালী ইনস্টিটিউটে ও প্রভাতীকালীন বালিকা শাখা চালু করা হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী ও দুইজন সন্তান নিয়ে তাঁর ছোট সংসার। সন্তানরা স্কুলে লেখাপড়া করেন। তাঁর আয়ের উৎস হলো গার্মেন্টস শিল্প। এছাড়াও মডার্ন সেলুন, রেস্টুরেন্ট ও জিমের ব্যবসার সাথেও তিনি জড়িত। জড়িত রয়েছেন নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে। বর্তমানে তিনি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে গান গেয়ে মানুষের মনে আনন্দ সঞ্চারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সাধারণত শৈবাল দাশ সুমনের পরিবারের সাথে আমার একটা পারিবারিক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বড়ভাই আমার অতি আপনজন ও সুহৃদ। আমি দেখেছি, তাঁদের বেড়ে উঠা, চালচলন ও পারিবারিক সংস্কৃতি। শৈবাল দাশ সুমনের সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠে ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রথমে এই সম্পর্ককে আমি অম্ল-মধুর হিসেবে নিলেও বর্তমানে সম্পর্কটি অত্যন্ত মধুময় ও সুখকর। এক সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে প্রতিনিয়ত বন্ধুমহল মিলে নগরীতে সন্ধ্যা আড্ডায় জড়ো হতাম। বলতে দ্বিধা নেই, আমাদের ভাবনা ছিল আড্ডায় মদ্যপান না করলে নিজেকে সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে বেমানান লাগত। এই ভ্রান্ত ধারণায় আমরা যখন ডুবে যেতে বসেছি, কূলকিনারা হারিয়ে দিনদিন নিজের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং আমাদের অগোচরে মানুষের ঘৃণার পাত্র হচ্ছি, তখনই শৈবাল দাশ সুমনের আহ্বান আমাদের প্রতি দেবদূতের মতো। তিনি বয়সে ছোট হলেও আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন নেশা না করেও সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠা হওয়া যায় এবং কীভাবে খারাপ নেশা থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে আসা যায় তার বন্দোবস্ত করলেন তিনি। উল্লেখিত বিষয়ে আমিসহ আমাদের বন্ধুমহল সকলেই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। বর্তমানে নগরীর তাঁর ওয়ার্ডে সৌন্দর্যবর্ধনের যা চলমান কার্যক্রম রয়েছে প্রতিটা কাজে আমার পরামর্শ রয়েছে ও রয়েছে সুনিশ্চিত মতামত। সেই বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শের জন্য ফোন করলে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করি তাঁকে সাহস দিয়ে শক্তি দিয়ে তাঁর কাজকে বেগবান করতে। কেননা মানুষের জন্য মানুষ এমন চিন্তা চেতনায় সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবাধিকার ও মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়াসে বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়ানো শৈবাল দাশ সুমন সমাজের দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সমাজকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। এটাই হচ্ছে একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো সবাইকে নিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর এই ভ্রাতৃত্বের বাংলাদেশ গড়তেই আমরা কাজ করছি। সম্প্রীতি ও উন্নয়নে জামালখান এখন পুরো বাংলাদেশের রোল মডেল। আমি আশা করি, আগামীতে তাঁর একগুচ্ছ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নান্দনিকতায় ভরে উঠবে জামালখান ওয়ার্ড, বাংলাদেশ দেখবে জামালখান। আমি নান্দনিক এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নন্দিতজন শৈবাল দাশ সুমনের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। প্রজন্মের আদর্শ হিসেবে তিনি গড়ে তুলুক নিজেকে।

লেখক: কলামিস্ট, নাট্যজন, সাংস্কৃতিক কর্মী।



ফেইসবুকে আমরা