বাংলাদেশ, , রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯

দারিদ্রতা বিমোচনে যাকাতের সুষ্ঠু বন্টনের ভুমিকা : কাজী মুহাম্মদ মামুনুল ইসলাম

  প্রকাশ : ২০১৯-০৬-০২ ১৬:৪৫:১৭  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি যাকাত। যাকাত শব্দের অর্থ পবিত্র করা,বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় একজন সুষ্ঠু,সবল, বিবেকবান মুসলমানের কাছে নিসাব পরিমান সম্পদ,টাকা পরিপূর্ণ এক বছর থাকলে তখন ঐ ব্যক্তি তাঁর মুল সম্পদের ৪০ ভাগের একভাগ তথা শতকরা ২.৫ টাকা হারে গরীবদের মাঝে বন্টন করার নামই যাকাত।
যাকাতের নিসাবঃ হাদিস শরীফের পরিভাষায় নিসাব বলতে বুঝায় একজন মুসলমান ৭.৫ তোলা স্বর্ন, ৫২.৫ তোলা রুপা অথবা সমপরিমান সম্পদ ১ বছর পর্যন্ত কারো মালিকানায় থাকায় হলো যাকাতের নিসাব।
যাকাত বন্টনের প্রচলিত নিয়মঃ বর্তমান সমাজে যাকাত বন্টনের একটি তথাকথিত নিয়ম পরিলক্ষিত হয় যা ইসলামী শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। রমজান মাস আসলেই যাকাত প্রদানের ধুম পড়ে যায়। যাকাতের শাড়ী,লুঙ্গির আলাদা আলাদা দোকান ও মার্কেটে দেখা যায়।
শরীয়তের নিয়মানুসারে যাদের উপর বড় অংকের যাকাত ফরজ হয়েছে তাদের অনেকে(সবায় নয়) মাইকিং করে অথবা পত্রিকা বিজ্ঞানের মাধ্যমে যাকাতের শাড়ী, লুঙ্গি বন্টন করে থাকে। এমনো অনেক খবর আমরা দেখি, যাকাতের শাড়ী নিতে গিয়ে পদপৃষ্ঠ হয়ে প্রানহানির খবর যা খুবই মর্মান্তিক। এ পদ্ধতিতে সওয়াবের চেয়ে লোক দেখানোর মনমানসিকায় বেশি প্রখর যা কখনো আমাদের কাম্য নয়।
শরয়ী নিয়মে যাকাতের সুষ্ঠু বন্টনঃ প্রচলিত নিয়মের পরিবর্তে আমাদের উচিত শরয়ী নিয়মে যাকাতের যথাযথ বন্টন নিশ্চিত করা। কারণ দারিদ্রতা বিমোচন করা যাকাত প্রথার মুল প্রতিপাদ্য বিষয়। তাই দারিদ্রতা কিভাবে মোচন করা যায় সেভাবে যাকাত দিতে হবে।
প্রথমতঃ যাকাত দাতা ব্যক্তি তাঁর কতটাকা যাকাত দিতে হবে তা হিসেব করে নিবে। তারপর কাদেরকে যাকাত গুলো প্রদান করবে তাদের একটা তালিকা করবে। ( এখানে বলা বাহুল্য যে, বর্তমান সমাজে ধনী লোক যাদের উপর যাকাত ফরজ হয়েছে তারা তাদের নিকটতম আত্মীয়দের মধ্যে সবচেয়ে গরীবদের মাঝে যাকাত প্রদান করবে। ধরি, তাদের গরীব আত্মীয়দের সংখ্যা ৫ জন। আর যাকাত প্রদানকারী ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এখন ঐ ব্যক্তি যদি শতশত মানুষের মাঝে যাকাতের শাড়ী,লুঙ্গি,অথবা সামান্য টাকা প্রদান করে তাহলে প্রতিটি গরীব মানুষ হয়তো একটা শাড়ী পাবে অথবা ২০/৫০/১০০ টাকা পাবে যা তাদের কোনো কাজে আসবেনা।
আর যদি ধনীরা সেটা না করে সর্বমোট ৫ / ১০ জনকে ৫ লাখ টাকা ভাগ করে দেয় তাহলে প্রতিজন ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা করে পাবে। যেটা দিয়ে তারা নিজেদের পরিবার চালানোর মতো কোনো কর্মসংস্থান করতে পারবে। অথবা ছোট কোনো ব্যবস্যা করতে পারবে। এভাবে তাদের এই ছোট ব্যবস্থা কয়েক বছর পরিচালনা করতে করতে হয়তো এমন একটা সময় আসবে যখন তারা আর যাকাত নিচ্ছেনা বরং গরীবদেরকে যাকাত দিচ্ছে।
এ পদ্ধতিতে যদি বাংলাদেশের প্রতিটি শিল্পপতি,ব্যবসায়ী,ধনী ব্যক্তিরা যাকাত প্রদান করে আমি বিশ্বাস করি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যাকাত নেওয়ার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়াটা দুষ্কর হবে।
পরিশেষে বলা যায়, একমাত্র যাকাতে সুষ্ঠু বন্টনের মাধ্যমে সমাজ থেকে চিরোতরে দারিদ্রতা বিমোচন করা সম্ভব।

লেখক :  বিভাগীয় প্রধান ও কো-অর্ডিনেটরঃ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল,(ন্যাশনাল কারিকুলাম) চট্টশ্বরী রোড, চকবাজার, চট্টগ্রাম।



ফেইসবুকে আমরা