বাংলাদেশ, , রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষিক উষ্ণতা ও পরিবেশ দূষণ

  প্রকাশ : ২০১৯-০৬-২২ ১৫:৪৪:৫২  

পরিস্হিতি২৪ডটকম/(আরিফ চৌধুরী): প্রতিনয়ত পৃথিবীর আবহাওয়া জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে সাথে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্র বেড়ে মরুময় সভ্যতায় বিপর্যয় নেমে আসতে শুরু করেছে সারা পৃথিবী জুড়ে। বদলে যাচ্ছে নিত্য মানুষ সহ জীবের বাঁচার পরিবেশ। বিশ্বের তাপমাত্র এমনভাবে বাড়ছে যাতে করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি মানুষ ও তাদের বসতি ডুবে যাওয়ার অনিশ্চিয়তায় পৃথিবীর সব প্রাণের বেঁচে থাকা অনিশ্চয়ত হয়ে পড়েছে। পরিবেশ দূষণের কারনে আবহাওয়া পরিমন্ডলে পৃথিবীর ঋতু বৈচিত্র্যের পরিবর্তন, বৈষিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে করে পৃথিবীর সভ্যতায় বেড়ে যাচ্ছে ঝড়ের প্রকট ও গ্রীস্মের দাবদাহ এবং যার ফলে খরায় বিপন্ন হচ্ছে চাষাবাদ ও কৃষি সভ্যতা।

এমনি দূষনে সারা পৃথিবীর মত আমাদের দেশের মানবসৃষ্ঠ পরিবেশ দূষনের প্রভাব পড়েছে জলবায়ু পরিবর্তনে। তাই বিলুপ্ত হচ্ছে মাছ ও অন্যান্য প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর হার। মূলত:পানি দূষণ, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মানব সভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবের ফলে হুমকির মুখে মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা। এসব অধিকার মধ্যে মানুষের জীবন, সম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, জীবন, জীবিকার উৎস, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের অধিকার নিহিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ সমাজ ও অর্থনীতেকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে এর ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা, ঘুণিঝড়, জলোচ্ছাস, লবনাক্ততার প্রবেশ ছাড়াও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও খরার প্রকট অন্যতম আকার ধারণ করবে। জলবায়ু পরিবর্তন প্রায় সব প্রতিবেশ সমাজ ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। জলবায়ু সংশি¯œন্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ দরিদ্য জনগোষ্ঠিকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ করে তুলবে। এর ফলে শরনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে জনগোষ্ঠীর মধ্যে তৈরী করবে নতুন নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, এদেশের নদী যোগান দেয় তৃর্ষার্ত পানি, চাষাবাদে ও নৌ চলাচলে নদীর গুরুত্ব থাকলেও বর্তমান জমি দখল, নদী ও চর দখল, ছাড়াও বালু ভরাটের কারনে নদী ভরাট হয়ে নদীর তীর নব্যতা হারিয়ে স্বাভাবিক গতি হারাচ্ছে। বিভিন্ন কারখানার বজ্য, ও বিষাক্ত লিকুইড ওয়াশ মিলে প্রধান প্রধান নদী গুলোকে বিষাক্ত করছে, এই সকল বজ্য নদীতে গিয়ে দূষিত করছে নদীর পানি, নদীতে জলজ প্রাণীও নদীর মাছের প্রজনন হুমকির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশে অধিকাংশ চাষাবাদ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে হওয়ার তা মূলত: বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল। এ দেশের মধ্যভাগের কিছু অংশ জুড়ে বছরে কেবল তিন ফসলের চাষ হয়। বাদ বাকী জমি গুলো হয় এক ফসলী বা দু ফসলী। তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে ফসলের গুনাগুন ও উৎপাদন ক্ষমতা কমে আসছে। মৌসুমী পানির অভাবে উর্বরতা হারাচ্ছে চাষের জমি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শুস্ক মৌসুমে যেমন দেখা দিচ্ছে তাপ ও শৈতপ্রবাহ, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশার প্রকট। বর্ষার বেড়ে যাচ্ছে বন্যা পরবর্তী জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টিও সামুদ্রিক ঝড়ের পরিমান। বাংলাদেশের বর্তমানে সমগ্র আয়তনের বনাঞ্চল প্রায় ৮৫০০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে। বনায়ন ও গাছপাল উৎপাদনের জন্য দেশের ৬৫ হাজার ২০০ একর জমি রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে-এদেশে যেখানে মোট আয়তনের ৩৩ শতাংশ বনভূমি দরকার সেখানে বনভূমির পরিমান ৯.৩ শতাংশ। আমাদের দেশে বন বনাঞ্চল ঘিরে বসতি স্থাপন, বনাঞ্চলে জুম চাষ ও গাছ কাটার ফলে আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছেনা। ১৯৭৩ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে বলা হয়েছে বনের মধ্যে এমন কোন গাছ লাগানো যাবেনা যাতে করে বন্যপ্রাণীর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন বিভাগ এই আইন ভংঙ্গ করে মধূপুর বন সহ সকল বনে বিদেশী প্রজাতির গাছ লাগিয়ে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। এই সুষ্ট পরিবেশ রক্ষার কারনে চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ, পর্যাপ্ত বনভূমি, প্রজন্মের সুষ্ঠ জীবন যাপনের জন্য পরিবেশ, ও পরিমিত বনাঞ্চল কে বাঁচাতে হবে।
সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিগত ২০১২ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষায় ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় ২০২০ সালের মধ্য কার্বন নি:সরনের ক্ষতি মোকাবেলায় শিল্প উন্নত দেশগুলো কি উদ্যাগ নেবে তা সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়াও পরিকল্পনা অনুযায়ী আইনগত ব্যাবস্থা ও অংশগ্রহনকারী দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা।
তাই, বর্তমানে জলবায়ু পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ দূষণ রোধে জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রশনম, দারিদ্র্যতা রোধে টেকসই উন্নয়ন, ২০১২ সাল পরবর্তী প্রতিশ্রুতি পুরনের অংশ হিসাবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের বৃহত্তর অংশগ্রহনে গ্রীণ হাউজ গ্যাস নির্গমনের কৌশল ছাড়াও উষ্ণ জলবায়ু ও পরিবর্তিত অবস্থার কিভাবে কার্যকর কৌশল উদ্ভাবন করা যায়, ও বিপন্ন জনগোষ্ঠির মানবাধিকার সুরক্ষায় পরিকল্পনা প্রণয়ন করে মৌলিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে কার্যকর কর্মসূচি, ২০০৮ সালের জাতীয় জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র প্রণয়ন করে পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যকর সিন্ধান্ত ও ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে সকল দূর্যোগের ক্ষতি হ্রাস করা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নীতিবাচক প্রভাবকে কাজে লাগাতে পারলে বিপন্ন মানব সভ্যতাকে বাঁচানো সম্ভব হবে। পরিবেশের সাথে সামজ্ঞস্য রেখে ঋতু বৈচিত্র্যের পরিবর্তন ঠেকাতে হলে সময় উপযোগী পদক্ষেপ নেয়ার সিন্ধান্ত হোক আজকের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অংঙ্গীকার।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক



ফেইসবুকে আমরা