বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

চীনা অর্থনীতিতে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়ছে

  প্রকাশ : ২০২০-০২-০৫ ১৮:৪০:৪২  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চীনা অর্থনীতিতে। ধস নেমেছে চীনের শেয়ারবাজারে। যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত সোমবার দেশটির শেয়ারবাজারে সূচকে ৮ শতাংশ পতনের রেকর্ড করা হয়েছে। চীনের পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কারো মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়নি। তবে ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৬টি দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। ২০ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এদিকে, চীন থেকে ফেরত আসা ৩১২ বাংলাদেশিকে বহনকারী বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী তাদেরকে ১৪ দিন এখানে রাখা হবে। এই সময়ের পর যদি তাদের শরীরে এই ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ না পাওয়া যায় তাহলে তারা ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ভাইরাসে প্রাণ গেছে অন্তত ৪২৭ জনের। এদের মধ্যে ৪২৫ জনই চীনে মারা গেছেন। চীনের বাইরে ফিলিপাইনসে একজন এবং মঙ্গলবার হংকংয়ে একজন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন ৮০ ভাগেরই বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে। এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এখনো করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেনি। মঙ্গলবার এশিয়ার আরো তিনটি দেশ-সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে—যারা চীনে যায়নি।
ভাইরাসটি নিয়ে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলছেন, আমাদের এখন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভাইরাসটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। ভাইরাস প্রতিরোধী কোনো টিকা বা শতভাগ সফল চিকিত্সা আবিষ্কার হয়নি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধের প্রথম ধাপই হলো ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গতকাল বেশ কিছু করণীয় দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। ঐ করণীয় বিষয়ে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ জন্য ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে (অন্তত ২০ সেকেন্ড যাবত্)। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। ইতিমধ্যে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। কাশি শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে (হাঁচি/কাশির সময় বাহু/ টিস্যু/ কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে। অসুস্থ পশু/পাখির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে। মাছ-মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে। অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, বাইরে যাওয়া অত্যাবশ্যক হলে নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন। জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত চীন ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন এবং প্রয়োজন ব্যতীত এ সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুত্সাহিত করুন। অত্যাবশ্যকীয় ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

এদিকে গতকাল হেলথ ক্লাস্টার সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইইডিসিআরর সম্মেলন কক্ষে রিস্ক কমিউনিকেশন নিয়ে ইউনিসেফ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ অংশীদারদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় যে, সম্মিলিতভাবে রিস্ক কমিউনিকেশন বার্তা সমূহ তৈরি করা হবে এবং প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।

চীনের উহান থেকে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি

গতকাল রাতে আশকোনা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র থেকে মাথাব্যথা নিয়ে একজন উহান ফেরত যাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ইতিপূর্বে ভর্তি হওয়া আরো একজনের অবস্থা এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল। আশকোনা হাজী ক্যাম্পে অবস্থানরত সবাই সুস্থ আছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিত্সকগণ ক্যাম্পে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আশকোনা হাজী ক্যাম্পে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত খাবার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত চীন থেকে আগত যাত্রীর সংখ্যা ৬ হাজার ৭৮৯ জন। গতকাল বিমানবন্দরে চীন থেকে আগত স্ক্রিনিং যাত্রীর সংখ্যা ৮৩৭ জন। তবে সন্দেহজন কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

সোমবার ঢাকায় এক সেমিনারে ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, যত বেশি পারেন আপনার কণ্ঠনালিকে ভিজিয়ে রাখুন। কোনো অবস্থাতেই শুষ্ক হতে দেওয়া যাবে না। অর্থাত্ তৃষ্ণা পেলেই পানি পান করুন। কণ্ঠনালি যদি শুষ্ক থাকে তবে মাত্র ১০ মিনিটেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, ৫০ থেকে ৮০ সিসি হালকা গরম পানি পান করুন (বড়োদের জন্য)। ৩০ থেকে ৫০ সিসি (ছোটোদের জন্য)। যখনই আপনি মনে করছেন আপনার কণ্ঠনালি শুকিয়ে আসছে, অপেক্ষা না করে দ্রুত পানি পান করুন। সব সময় হাতের কাছে বিশুদ্ধ পানি রাখুন। একবারে প্রচুর পানি পান করে লাভ নেই। বরং অল্প অল্প বিরতিতে অল্প অল্প পান করে কণ্ঠনালিকে সবসময় আর্দ্র করে রাখুন। মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত এই নিয়মগুলো মেনে চলুন।



ফেইসবুকে আমরা