বাংলাদেশ, , শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯

চন্দনাইশের শুকাম্বর দীঘির প্রাচীন মেলায় গণমানুষের ভীড়

  প্রকাশ : ২০১৯-০১-১৬ ২০:০৪:৫৯  

পরিস্হিতি২৪ডটকম /(এস কফিল, চন্দনাইশ):বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও নানা আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার সম্পন্ন হলো চন্দনাইশের শ্রী শ্রী শুকাম্বর ভট্টাচার্য্য দীঘি মেলা। প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তিতে দীঘি সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে বসে গ্রামীণ লোকজ মেলা। সনাতন বা হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ, বাহাইসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতি ঘটে। দূরের লোকজন আসা মাত্রই কাজকর্ম সেরে এ মেলাস্থল দ্রুত ত্যাগ করলেও বিশাল এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বরাবরের মত এবারও লাখো মানুষের ভীড়ে সাঙ্গ হলো শ্রী শ্রী শুকাম্বর ভট্টাচার্য্য দীঘির বহুবছরের প্রাচীন এ মেলা। দীঘির পাড় সংলগ্ন বার একর জমি ও তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে বিস্তৃত হয় এ মেলা। মূল মেলা একদিন ব্যাপী হলেও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের সুচিয়া, বাইনজুরি, শেবন্দী ইত্যাদি গ্রামে আগের দিন হতে পূণ্যার্থী জড়ো হন।

শীতের তীব্রতা উপো করে এ মেলার প্রতি সকল শ্রেণি পেশার মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল ল্যণীয়। বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ মেলার কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। দিন ব্যাপী পূজা, পূণ্যস্নান, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, ধূপ প্রজ্বলন, দুগ্ধ নিরঞ্জন, কবুতর উৎসর্গ, পাঁঠা বলিসহ ধর্মীয় কার্যক্রম এবং নাগরদোলাসহ শিশুদের আনন্দ উপভোগের বিভিন্ন রাইডস ও লোকজ মেলায় হরেক রকম জিনিসপত্রের বিকিকিনি চলে। মেলায় মিলেছে পাস্টিক, ফাইবার, এলুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ ও মাটির তৈরি জিনিসপত্র, হস্ত ও কুঠিরশিল্প সামগ্রী, বইপত্র, স্টেশনারি সামগ্রী, কাঠের ফার্নিসার, ক্রোকারিজ, উলের তৈরি ঝাড়– প্রভৃতি। এসব সামগ্রীর বিক্রিও হয়েছে প্রচুর।

শুকাম্বর ভট্টাচার্য্য ভারতের নদীয়া থেকে চন্দনাইশের বরমার বাইনজুরীতে আগমন করেছিলেন। ধর্মীয় সাধনার মাধ্যমে এক সময় তিনি সিদ্ধি লাভ করেন। প্রতি বছরের মত এবারও ভারত, নেপাল, ভূটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এ পীঠস্থানে এসেছে। কথিত আছে, মেলায় যারা যে মনোবাসনা নিয়ে আসেন তা পূর্ণ হয়। এক সময় বিবাহ অনুষ্ঠানের যাবতীয় জিনিসের তালিকা মহাসাধক শ্রী শ্রী শুকাম্বর ভট্টাচার্য্যরে হাতে দিলে বিবাহের দিন দীঘিতে তালিকার সকল মালামাল ভেসে উঠত বলে প্রবাদ রয়েছে। মেলা ছাড়াও পূণ্যের আশায় সারা বছর মানত নিয়ে দীঘিতে দুধ, ছাগল ও কবুতর, ফল ইত্যাদি উৎসর্গ করেন অনেকে। তাদের মতে দীঘির পানিতে উৎসর্গকৃত দুধ পানির সাথে না মিশে তলিয়ে যায়। এ ধরনের অনেক উপাখ্যান আছে দীঘিকে ঘিরে। অনেকের বিশ্বাস, ওই দীঘিতে সোনার অলংকার উৎসর্গ করলে ইচ্ছা পূরণ হয়। আর তাই, আশা পূরণের ল্েয ভক্ত মানুষগুলো একই মোহনায় মিলিত হন। আর এভাবেই শুকাম্বর দীঘিতে হয়ে উঠে পৌষ সংক্রান্তির মেলায়। শুকাম্বর দীঘির পাড়ে শতবর্ষী একটি বটবৃ রয়েছে। মনস্কামনা পূরণের লে দর্শনার্থী নারী-পুরুষ মানত করে ওই বটের ঢালে সুতা বেঁধে দেন।



ফেইসবুকে আমরা