বাংলাদেশ, , সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

চট্টগ্রামে ‘সিলভার স্ক্রিন’ আয়োজিত সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী : বিএনপির আবদার হলো রাষ্ট্র যেন দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করে

  প্রকাশ : ২০১৯-১০-০৫ ১৯:১৮:১৬  

পরিস্হিতি২৪ডটকম : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির আবদার হচ্ছে রাষ্ট্র যেন দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করে। এটি করা তো সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি একেবারেই আদালতের এখতিয়ার। রাষ্ট্রপক্ষের জামিনের বিরোধীতা না করে তাদের আবদার পূরণের কোন সুযোগ নেই।’

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ফিনলে স্কয়ারে সিনেপ্লেক্স ‘সিলভার স্ক্রিন’ আয়োজিত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এবং বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় কেউ জামিন চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের কাজ হচ্ছে জামিনের বিরোধীতা করা। জামিনের যদি বিরোধীতা করা না হয় তাহলে সেখানে তো দুর্নীতির সঙ্গে রাষ্ট্রের আপোস করা হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে, দুর্নীতির দায়ে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন জামিন চাইবেন, তখন তার বিরোধীতা করা। এটা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বা দুদকের আইনজীবীর দায়িত্ব।’

কবি ও প্রাবন্ধিক আবুল মোমেনের সভাপতিত্বে ও কামরুল হাসান বাদলের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম রমিজ উদ্দিন, আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলো চট্টগ্রাম অফিসের বার্তা সম্পাদক কবি ওমর কায়সার প্রমূখ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধীতা করলেও আদালত নানা বিবেচনায় যে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারে। সেটি আদালতের এখতিয়ার। এখন বিএনপির নেতারা একেক সময় একেক কথা বলেন। তারা আসলে কী চায়? তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে, কারাগারে থাকা নিয়ে রাজনীতি করতে চান নাকি খালেদা জিয়াকে সত্যিকার অর্থে আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত করতে চান?’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা একবার বলে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করা হবে, কোন করুনা তারা চায় না। আবার বলে রাষ্ট্রপক্ষ যেন বিরোধীতা না করে। আবার বলে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত একজন আসামি। এতিমের জন্য, এতিমখানা নির্মাণের জন্য যে টাকা এসেছিলো। এতিমখানা নির্মাণ না করে তিনি সেই টাকা নিজের ব্যাংক হিসাবে সরিয়ে ফেলেছেন। সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, দলিল দস্তাবেজ, সওয়াল-জওয়াবের মাধ্যমে তার শাস্তি হয়েছে।’

এর আগে তথ্যমন্ত্রী ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এবং বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বলেন, ‘চলচ্চিত্র জীবনের কথা বলে, চলচ্চিত্রকে সমাজের দর্পন হিসেবে জানে, চলচ্চিত্র সমাজকে দিক নির্দেশনা দেয়। মানুষকে কাঁদায়-হাসায়। নতুন প্রজন্ম চলচ্চিত্র দেখে না। তিন ঘণ্টা সিনেমা দেখার মতো ধৈর্য্য তাদের নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সিনেমার মধ্যে সমাজের জন্য একটি বার্তা থাকা দরকার। সমাজের যে অসঙ্গতি আছে তা তুলে ধরা দরকার। মানুষ যে যন্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে এবং পশ্চিামাদের যে অন্ধ অনুকরণ হচ্ছে এতে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। অথচ সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের দিক দিয়ে আমরা পশ্চিমাদের চেয়ে অনেক বেশি ধনী ও সমৃদ্ধ এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আমাদের কাছ থেকে পশ্চিমাদের শেখার কথা। সেটি না হয়ে উল্টো হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়গুলোকে যদি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়, সমাজকে বার্তা দেয়া যায়, তাহলে মানুষকে যন্ত্র হওয়া থেকে বিরত রাখা যায়। মানুষের আবেগ ও অনুভুতি যাতে থাকে জড়পদার্থ হয়ে না যায় সেখানে চলচ্চিত্র বিরাট একটা ভুমিকা রাখতে পারে। সব চলচ্চিত্রে যদি এ ধরণের বার্তা থাকে সেটি সমাজ নির্মাণে এবং সমাজের মূল্যবোধ সংরক্ষণে এবং সমাজকে মানবিক হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক হবে।’



ফেইসবুকে আমরা