বাংলাদেশ, , শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০

গাইবান্ধা সাঘাটায় দুই পা দিয়ে মাষ্টার্স পড়াশুনায় প্রতিবন্ধী আয়েশা !

  প্রকাশ : ২০১৯-০৯-১৪ ১৪:১৮:১০  

পরিস্হিতি২৪ডটকম/(মিরহোসেন সরকার): দুই হাত ও পা নেই তবুও পড়াশুনায় পারদর্শী! সংসারের সকল কাজ-কর্ম, অনায়াসেই করতে পারেন আয়েশা। এমনি এক অসম্ভবকে সম্ভব করতে সক্ষম হয়েছে গাইবান্ধা জেলা সাঘাটা উপজেলার পূর্ব কচুয়ায় গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করা আয়েশা।
চলুন আমার জেনে নেই তার বিষয়ে:
১৯৯৩ সালে গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার পূর্ব কচুয়ায় এক গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আয়েশা। জন্মকাল থেকেই সে দুই হাত বিহীন। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করার পর তার পরিবারে আর্থিক কিছু সমস্যা দেখা দেয়। নানা প্রতিকুলতার মাঝেই তাকে বড় হতে হয়। মা-বাবা এবং পরিবারের সব সদস্যরাই আয়েশার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে। মেয়ে হয়ে জন্মগ্রহণ করা তার ওপর আবার দুটি হাত নেই। বর্তমান সমাজে প্রতিবন্ধীদেরকে মানুষ হেয় চোখে দেখে।
জন্মগ্রহণ করার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিয়ে চলতে হতো আয়শাকে। কিন্তু, আয়েশা সব সময় চিন্তা-ভাবনায় মুগ্ধ থাকতো; কিভাবে অন্যের সাহায্য ছাড়া একা চলা যায়, হাত নেই তো কি হয়েছে দু’ পা তো আছে। পা দিয়েই হাতের কাজগুলো করা যায় কি না!? এসব ভাবনা চিন্তার পর থেকেই আয়েশা হাতের কাজগুলো আস্তে আস্তে দু’ পা দিয়ে করার চেষ্টা করতে থাকে। আয়েশার ছোটবেলা থেকেই অনেক পড়াশুনার স্বপ্ন ছিল। কিন্ত, পড়ালেখায় সবচেয়ে বড় বাঁধা হল তার দু’হাত নেই। সে কখনো থেমে যায়নি। হাত-বিহীন সমস্যা বাঁধাকে অতিক্রম করে সে পা দিয়ে পড়ালেখা করতে শুরু করে।
অনেক প্রচেষ্টার আর পরিশ্রমের পর আয়েশা পা দিয়ে হাতের কাজগুলো করতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিকভাবেই এখন পা দিয়ে মানুষের মতই তার ব্যক্তিগত কাজ করতে পারে। সাথে মানুষের কাজেও যুক্ত হতে পারে। আয়েশা এখন পা দিয়ে, কাঁথা সেলাই করা, ল্যাপটব চালানো, মোবাইল ফোনে কথা বলা, দরজায় তালা লাগানো, চাবি দিয়ে তালা খোলা, রান্না করা, এবং সাথে লেখার কাজটা সে পা দিয়েই অনায়াসেই করতে সক্ষম। সে যখন পঞ্চম শ্রেণীতে ওঠে তখন তার বাবা আব্দুল লতিফ তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। কিন্তু, আয়েশার মতামতে বিয়েতে ইচ্ছা ছিল না তার। আয়েশা যখন কোনো কিছুতেই বিবেচনা করতে পারল না, তখন সে সহনীয় নারী প্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কাছে গিয়ে তার সব কথা খুলে বলে। নারী প্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুলতানা তখন আয়েশার মা-বাবাকে বাল্য বিবাহ প্রসঙ্গে কথা বলে তাঁর বিয়ে বন্ধ করে দেয়।

প্রগতি সংস্থার উদ্দ্যোগে আয়েশাকে তারা আবারো নিয়মিত পড়াশুনা করার সুযোগ দেন। ইতিপূর্বে আয়েশা প্রতি সপ্তাহে একদিন কম্পিউটার শিখছেন তথ্য-কল্যাণীর কাছে। সে কয়েক প্রকারের সেলাই এবং কম্পিউটারের এম এস ওয়ার্ড মোটামুটি ভাবে শেষ করেছে। আয়েশা উদয়ন মহিলা কলেজ থেকে (বি.এ) পাশ করে। বর্তমানে সে এখন গাইবান্ধা সরকারি কলেজে মাষ্টার্স (রাষ্ট্র বিজ্ঞানে) ১ম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। তার পরিবারের আর্থিক অভাবের কারণে বই খাতা কিনতে পারছে না। আয়েশা বলেন, পড়াশুনা করে ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে নিজের ও পরিবারের উন্নতি করব এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি প্রতিবন্ধী বলে সমাজে কারো বোঝা হয়ে থাকতে চাইনা। প্রতিবন্ধীরাও তো মানুষ। প্রতিটি মানুষের মতো তাদেরও ব্যক্তিগত জীবন আছে। সব মানুষের মতো তাদের কেউ যদি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায় তো তারাও দেশের মানুষের জন্য অনেক কিছু করতে পারবে। তাদেরও কাজ করার সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এটাই তার আশা-প্রত্যাশা।



ফেইসবুকে আমরা